মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

দর্শনীয় স্থান

 

ডিসি ইকোপার্ক(Unvailing the Treasure of Chuadanga)

    নদীয়া এস্টেটের জমিদার শ্রী নফর চন্দ্রপাল চৌধুরী ১৮৯৫ সালে দামুড়হুদা উপজেলার শিবনগরের বৃহৎ  এলাকা জুড়ে  আম, কাঁঠাল ও লিচু গাছের সমন্বয়ে একটি বাগান তৈরী করেন। বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য প্রবেশ পথের দুই পাশে সারিবদ্ধ করে শত শত তালগাছ রোপন করেন। নফর চন্দ্র পাল চৌধুরী ১৯৪০ সালে পরলোকগমন করেন। তার দুই পুত্র ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ভারতে চলে যান। পরবর্তীতে বাগানটি সরকারের মালিকানায় চলে আসে। বহু বছর পরিচর্যার অভাবে বাগানটি প্রায় বৃক্ষ শূণ্য হয়ে পড়ে এবং ঘন জঙ্গল সৃষ্টি হয়ে সর্বহারা পার্টির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। ২০১৩ সালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদানের পর বাগান ও জলাশয়কে নতুনভাবে সাজিয়ে সরকারি সম্পদ রক্ষা ও সরকারি আয় বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়। বাগানটির সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এখানে 113প্রজাতির ১2,০37অধিক দেশী বিদেশী ফলজ, বনজ এবং ওষুধি গাছ রোপন পূর্বক সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

 

 

গত ১৩-১২-২০১৪ খ্রিঃ তারিখ বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব (প্রাক্তন সিনিয়র সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়) জনাব মোহাম্মদ শফিউল আলম এবং বিভাগীয় কমিশনার খুলনা বিভাগ জনাব মোঃ আবদুস সামাদ মহোদয়ের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসক কুষ্টিয়ার সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণের আতম-কর্ম মূল্যায়ন (Self assessment) কর্মশালাতে বাগন ও বাগান সংলগ্ন জলমহলের সম্ভাবনার বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে সিনিয়র সচিব মহোদয় ও কমিশনার মহোদয় কাজটি এগিয়ে নিতে উৎসাহ প্রদান করেন।

 

ডিসি ইকোপার্কের যাত্রাঃ

          বিভাগীয় কমিশনার খুলনা জনাব মোঃ আব্দুস সামাদ মহোদয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ২০১৪ সাল হতে তালসারি-শিবনগর আমবাগান ও বাগান সংলগ্ন বটতলী  বিল জুড়ে একটি ইকো পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। পার্কটি আকর্ষণীয় করার জন্য প্রাক্তন জেলা প্রশাসক জনাব দেলোয়ার হোসাইন এবং বর্তমান জেলা প্রশাসক জনাব সায়মা ইউনুস সহযোগিতা করে যাচেছন। ২০ জানুয়ারী ২০১৬ খ্রিঃ তারিখ বিভাগীয় কমিশনার খুলনা বিভাগ জনাব মোঃ আবদুস সামাদ মহোদয় কর্তৃক প্রত্নতত্তব বিভাগের মহা পরিচালক জনাব মোঃ আলতাফ হোসেন ও খুলনা বিভাগের দশ জন জেলা প্রশাসকগণের উপস্থতিতে ইকোপার্কের গেস্ট হাউজ উদ্বোধন করা হয়। গত ২৭ ফেব্রম্নয়ারী ২০১৬ খ্রিঃ তারিখ মন্ত্রিপরিষদ সচিব জনাব মোহাম্মদ শফিউল আলম ডিসি ইকো পার্কের মিনি চিড়িয়াখানা উদ্বোধন করেন। 22-082016তারিখ বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় কর্তৃক পার্ক ক্যাফে উদ্ভোধন করা হয়।

 

বাগান ও লেক মিলে প্রায় ১২৮ একর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত ইকোপার্কটি বর্তমান প্রকৃতি প্রেমি মানুষদের বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বাগানের সাথে সংযুক্ত প্রায় ৭৬ একর জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। বাগান পরিচর্যা ও সুরক্ষার মাধ্যমে গাছের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া নতুন সৃজিত ফলজ গাছ সুরক্ষার মাধ্যমে পরিচর্যা করা হচ্ছে। আগামী ৫-৬ বছর পর হতে ফলজ গাছ লীজের মাধ্যমে প্রতি বছর কম্পক্ষে এক কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। শতবর্ষী তালের সারি পলস্নব ঘেরা অম্রকানন, লিচু বাগান, কাঁঠাল বাগান, আম বাগান হয়েছে অসাধারণ এক পর্যটন কেন্দ্র । যা চুয়াডাঙ্গা জেলার আকর্ষণ ও সম্মান বৃদ্ধি করছে। সৌন্দর্যের লীলা ভূমি আজকের ডিসি ইকোপার্কে প্রতিদিন দূর দূরামত্ম হতে হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটছে। পার্কের লেকের পানিতে সাম্পানে চড়ে আগত পর্যটক আননদ উপভোগ করছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আদর্শ একটি বিনোদন কেন্দ্র এবং প্রসিদ্ধ ও বিলুপ্তপ্রায় সকল ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছ ও প্রাণীকূলের অভায়শ্রম তৈরী করার প্রয়াসে প্রতিদিন তিল তিল করে গড়ে তোলা হচ্ছে ডিসি ইকোপার্ক।


 

 

 

 

 

 

 

 হাজার দুয়ারী ভবন সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ

 

নাটুদহের পাল বংশের জমিদার নফরচন্দ্র পাল চৌধুরী কর্তৃক ১৯০৬ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলাধীন নতিপোতা ইউনিয়নের নাটুদহ গ্রামে নাটুদহ হাজার দুয়ারী ভবনটি নির্মাণ করেন। ১৯০৬ সাল থেকে ভবনটি নাটুদহ  হাই স্কুলে রূপান্তরিত হয়েছে। ১৯০৯ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলটিকে স্বীকৃতি প্রদান করেন। এখানকার হাজার দুয়ারী ভবনটি দৃষ্টিনন্দন। বর্তমানে এই ভবনটি এলাকার একটি পর্যটক ভবন হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার দর্শনার্থী এই হাজার দুয়ারী ভবন দর্শন করেন।

 

Text Box:

 

 

 

 

 

জাতীয় কবি কাজী নজরম্নল ইসলামের আটচালা ঘরঃ

 

আনুমানিক ১৯২৬ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের নিভৃত খ্রিস্টান পলস্নীর আটচালা ঘরে জাতীয় কবি কাজী নজরম্নল ইসলাম অবস্থান করতঃ সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে তৎকালীন স্বদেশী আন্দোলনকে বেগমান করেছিলেন মর্মে লোকমূখে জানা যায়। এখানে ১৯৮৬ সাল হতে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরম্নল ইসলাম এর জন্মবার্ষিকী ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে আসছেন। জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে বিভিন্ন কবি সাহিত্যিক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জাতীয় কবি কাজী নজরম্নল ইসলাম স্মৃতিবিজড়িত এ স্থানে আগমন করে থাকেন।


 

 

 

নাটুদহ আটকবর  - নতিপোতা ইউনিয়নের নাটুদহ গ্রামে ১৯৭১ সালের ৫ই আগস্ট পাক সেনাদের সাথে সন্মুখযুদ্ধে শহীদ আটজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর বিদ্যমান যা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত আটকবর নামে ঐতিহাসিক মর্যাদা লাভ করেছে। শহীদ আটজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হলেন - আলাউল ইসলাম খোকন, হাসান জামান, আবুল কাশেম, রওশন আলম, রবিউল ইসলাম, আফাজ উদ্দিন, খালেক সাইফুদ্দিন তারেক ও কিয়ামুদ্দিন।

 

 

 

·দর্শনা কেরু এন্ড কোং লিঃ - ডিসটিলারী ইউনিটের অংশ হিসাবে ঐতিহ্যবাহী দর্শনা কেরু এন্ড কোং লিঃ এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম চিনিকল  যা বৃটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি একটি উৎকৃষ্ট পিকনিক স্পট যেখানে একটি দ্বিতল ভবন বিশিষ্ট মনোরম গেস্ট হাউজ রয়েছে।

 

 

 


·তালসারি  -  কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নে সরকারী সায়রাতভূক্ত শিবনগর ফলকরটির প্রবেশপথ ‘তালসারি’ নামে পরিচিত যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হৃদয়স্পর্শী। ফলকরটিতে বর্তমানে পাঁচ শ’র অধিক আম গাছ রয়েছে।

 

·মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ - ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন দর্শনা কলেজ পা্রঙ্গনে তৎকালীন অধ্যক্ষ ও দুই জন প্রভাষক-কে পাক হানাদার বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে। বর্তমান দর্শনা সরকারী কলেজের অভ্যন্তরের সেই প্রাঙ্গনটি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছবি


সংযুক্তি